Skip to main content

Posts

গুচ্ছকবিতা ।। মেশকাতুন নাহার

স্বাধীনতার নীরব প্রস্থান   এক প্রেমরাষ্ট্র গড়ে ওঠে অনুভূতির নামে, সেখানে ক্ষমতা বসে থাকে ভালোবাসার ফ্রেমে। শাসন চলে হাসিমুখে, আদেশ আসে নরমে, নরম শব্দের আড়ালেতে স্বৈরাচারই কর্মে।  রাষ্ট্রপ্রধান প্রেমিক বটে, আইন নিজেই লেখে, যা সে বলে সেটাই সত্য—বাকিটা সে মুছে রাখে। সংবিধান তার খুবই ছোট, একটিমাত্র ধারা— ক্ষমতাই যে ভালোবাসা, প্রশ্ন মানে হারার সারা। নাগরিক আছে, অধিকার নেই—থাকে শুধু দায়, মতামত দেয় অনুমতিতে, সীমার ভেতর চাই। নিজস্ব চিন্তা উচ্চারণে রাষ্ট্রদ্রোহ গোনা, স্বাধীনতার সংজ্ঞাটুকু সন্দেহে ভেজানো সোনা। "ভালোবাসা মানে অধিকার"—ঘোষণা চলে নিত্য, সম্মতি সেখানে অপরাধ, 'না' শব্দটি অসত্য। কখনো কবি হয়ে শাসক ছন্দে রাগ ঝাড়ে, সমস্যার সব উৎস খুঁজে দুর্বল কণ্ঠে পাড়ে। কখনো দার্শনিক সেজে বক্তৃতা দেয় ভারী, স্বাধীনতা নাকি বিলাস, সীমাবদ্ধতাই সারি। এইভাবে রাষ্ট্র চলে বেশ শান্ত আর গম্ভীর, ভেতরে ভেতরে শুকিয়ে যায় অন্তর আর শরীর।  হঠাৎ একদিন নাগরিক পাঠ বদলায় ধীরে, রাষ্ট্র নয়—জীবন পড়তে শেখে নিজের নীড়ে। দেখে সে মানুষ জন্মেছে, শাসনের জন্য নয়, ভালোবাসা মানে শৃঙ্খল—এই বোধে জাগে ভয়। কোনো বিদ্রোহ, কোন...
Recent posts

অহংকারের অদৃশ্য ভুঁড়ি ও নিঃসঙ্গতার নীরব জ্যামিতি ।। মেশকাতুন নাহার

অহংকারের অদৃশ্য ভুঁড়ি ও নিঃসঙ্গতার নীরব জ্যামিতি মেশকাতুন নাহার  অহংকার এক অন্তর্লীন বিস্তার—তার কোনো দৃশ্যমান অবয়ব নেই, তবুও সে মানুষের চেতনার ভেতরে এমনভাবে বৃদ্ধি পায়, যেন অদৃশ্য কোনো ভুঁড়ি ক্রমাগত স্ফীত হচ্ছে। এই স্ফীতি শরীরের নয়, বরং অস্তিত্বের; এটি এমন এক ভার, যা বহন করা হয় অনুভূতির গভীরে, কিন্তু যার উপস্থিতি সচেতন দৃষ্টির আড়ালে থেকে যায়। মানুষ আয়নায় নিজেকে দেখে, কিন্তু সে কেবল বাহ্যিক আকৃতি পর্যবেক্ষণ করে; অন্তর্গত এই স্ফীতির প্রতিফলন সেখানে ধরা পড়ে না। ফলে এক ধরনের অস্তিত্বগত বিভ্রম জন্ম নেয়—যেখানে ব্যক্তি নিজেকে অপরিবর্তিত মনে করে, অথচ তার ভেতরে এক নীরব রূপান্তর ঘটে চলেছে। এই রূপান্তরের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে “আমি”—মানবচেতনার সেই মৌলিক বিন্দু, যা থেকে সমস্ত অভিজ্ঞতার সূচনা। কিন্তু যখন এই “আমি” নিজের পরিসর অতিক্রম করে একক আধিপত্যের দিকে অগ্রসর হয়, তখন তা আর স্বাভাবিক আত্মপরিচয় থাকে না; বরং তা অহংকারে রূপান্তরিত হয়। এই অহংকার নিজেকে উচ্চকিত করে না, বরং অন্য সব সত্তাকে প্রান্তিক করে তোলে। ফলে অস্তিত্বের সমতল ভেঙে যায়, এবং সেখানে এক অদৃশ্য জ্য...

বহুত্বের বুননে বাংলাদেশ ।। মেশকাতুন নাহার

বহুত্বের বুননে বাংলাদেশ  মেশকাতুন নাহার  বাংলাদেশ—এটি কেবল মানচিত্রে আঁকা একটি ভূখণ্ডের নাম নয়; এটি বহু সুরের মিলিত এক দীর্ঘ সংগীত। এখানে নদী যেমন বিভিন্ন উৎস থেকে এসে এক সাগরে মিশে যায়, তেমনি মানুষের বিশ্বাস, সংস্কৃতি, ভাষা ও ইতিহাসও এসে মিশেছে এক সম্মিলিত চেতনায়। এই দেশকে বুঝতে হলে তাকে একরঙা ক্যানভাসে আঁকা যায় না; তাকে দেখতে হয় নকশিকাঁথার মতো—যেখানে প্রতিটি সুতো আলাদা রঙে দীপ্ত, অথচ সবকিছু মিলেই তৈরি হয় এক অখণ্ড নকশা। বাংলাদেশের আত্মা গড়ে উঠেছে সময়ের দীর্ঘ স্রোতধারায়। এই ভূখণ্ডে কেবল ভূগোল নেই, আছে ইতিহাসের গভীর স্তর, আছে সংগ্রামের দীপ্তি, আছে সংস্কৃতির উজ্জ্বল মিছিল। তাই বাংলাদেশকে বোঝা মানে কেবল বর্তমানকে দেখা নয়; বরং অতীতের স্মৃতি, বর্তমানের বাস্তবতা এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকে একসাথে অনুভব করা। বাংলাদেশের আত্মপরিচয়ের মূল উৎসগুলোর একটি হলো ভাষার জন্য আত্মত্যাগের ইতিহাস। পৃথিবীর ইতিহাসে খুব কম জাতিরই এমন উদাহরণ আছে, যেখানে মানুষ মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য জীবন বিসর্জন দিয়েছে। বাংলা ভাষার জন্য যে আত্মত্যাগ সংঘটিত হয়েছিল, তা কেবল একটি ভাষার স্বীকৃতির সংগ্রাম ছিল না; তা ছিল ...

নিদ্রিত শুদ্ধতার প্রান্তরে অশুদ্ধতার কর্ণভেদী উল্লাস ।। মেশকাতুন নাহার

নিদ্রিত শুদ্ধতার প্রান্তরে অশুদ্ধতার কর্ণভেদী উল্লাস মেশকাতুন নাহার  যে মুহূর্তে শুদ্ধতা অবসন্ন দেহে নৈঃশব্দ্যের শয্যায় শায়িত হয়, ঠিক সেই মুহূর্তেই অশুদ্ধতা রণতূর্য হাতে নগর পরিভ্রমণে নামে। ইতিহাসের এই উপাখ্যান নতুন নয়; কেবল মুখোশের নকশা বদলায়, চরিত্রের কণ্ঠস্বর পাল্টায়, অথচ নাট্যরসের গঠন একই থাকে। শুদ্ধতা, এক নির্বাক তপস্বিনী—অগ্নিশিখার মতো অন্তর্মুখী; আর অশুদ্ধতা, এক চৌকস জাদুকর—ধোঁয়ার বৃত্তে আকাশ ভরিয়ে দেয়, যেন ধোঁয়াই সূর্য। শুদ্ধতার ক্লান্তি আসলে পরাজয় নয়; এটি অন্তর্দীর্ঘ যাত্রার অবসাদ। সে পথ চলে শিলাস্তরের ওপর দিয়ে, যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপে রক্তের অক্ষরে লিখিত হয় দায়বোধ। কিন্তু এই রক্তলিপি কে পড়ে? বাজারের চোখ তো রঙিন ব্যানার দেখে, শিরোনামের ঝলক দেখে। তাই শুদ্ধতা যখন ধ্যানমগ্ন হয়ে আত্মার আঙিনায় ফিরে যায়, অশুদ্ধতা তখন মঞ্চের আলো কুক্ষিগত করে ঘোষণা করে—"আমিই আলোর উৎপাদক!" অশুদ্ধতার কৌশল সূক্ষ্ম, অথচ প্রকাশ্য। সে শব্দের আভরণ পরে; নৈতিকতার অভিধান তার হাতে খেলনা। "স্বচ্ছতা", "দায়িত্ব", "মানবতা"—এই শব্দগুলোকে সে এমন দক্ষতায় উচ্চারণ করে, যেন শব্দগুলো...

মস্তিষ্ক খোলা তবুও জানালা বন্ধ ।। মেশকাতুন নাহার

মস্তিষ্ক খোলা তবুও জানালা বন্ধ  মেশকাতুন নাহার  সমাজে এমন কিছু জীবাণু আছে, যাদের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে কোনো মাইক্রোস্কোপ লাগে না, কোনো পরীক্ষাগারের দরজাও খুলতে হয় না। তারা বইয়ের পাতায় থাকে না, হাসপাতালের তালিকাতেও নেই—তবু তারা দিব্যি বেঁচে থাকে, বেড়ে ওঠে, এবং এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে নির্বিঘ্নে ছড়িয়ে পড়ে। কুসংস্কার ঠিক তেমনই এক অদৃশ্য জীবাণু। এই জীবাণু এতটাই ভদ্র যে দরজায় কড়া না নেড়েই ঢুকে পড়ে, আবার এতটাই কৌশলী যে আক্রান্ত মানুষ নিজেও টের পায় না—সে কখন সংক্রমিত হয়ে গেছে। এই ব্যাধির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর নীরবতা। এটি চেঁচিয়ে বলে না, "আমি কুসংস্কার"; বরং ফিসফিস করে বলে, "সাবধান থাকাই ভালো", "আগে থেকে এমনটাই চলে আসছে", কিংবা সবচেয়ে জনপ্রিয় বাক্যটি—"একবার মানলে ক্ষতি কী?" এই 'একবার'-ই বহুবারের ক্ষতির সূচনা করে। সমাজ ধীরে ধীরে এই ফিসফিসানিকে স্বাভাবিক শব্দ বলে মেনে নেয়, আর ঠিক তখনই কুসংস্কার স্থায়ী বাসা বাঁধে মানুষের চিন্তায়। অনেকেই মনে করেন, কুসংস্কার মানেই অশিক্ষা। বাস্তবে বিষয়টি এত সরল নয়। এই রোগ নিরক্ষরতার ওপর নির্ভর করে না, বরং অনেক স...

বিপরীত মেরুতে দাঁড়িয়ে ।। মেশকাতুন নাহার

বিপরীত মেরুতে দাঁড়িয়ে  মেশকাতুন নাহার  মিথ্যা বলা মহাপাপ—এই বাক্যটি আমাদের অনেকের শৈশবের নৈতিক পাঠ্যবইয়ের প্রথম লাইন। ঘুমপাড়ানি গল্প থেকে শুরু করে স্কুলের নীতিশিক্ষা, পারিবারিক উপদেশ—সবখানেই একই শিক্ষা: সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ। গুরুজনদের মুখে শোনা সেই বাক্যগুলো কেবল শব্দ ছিল না, ছিল জীবনের দিশা। সেগুলোকেই পাথেয় করে আমরা নিজেদের গড়ে তুলতে চেয়েছি। চেষ্টা করেছি সৎ থাকার, সত্য বলার, ন্যায়ের পথে হাঁটার। অনেক ক্ষেত্রেই সফলও হয়েছি—শিক্ষাজীবনে, ব্যক্তিত্ব গঠনে, এমনকি আত্মসম্মান রক্ষার লড়াইয়েও। এরপর জীবন ধীরে ধীরে প্রবেশ করে নতুন অধ্যায়ে—কর্মজীবন শুরু হয়, সংসার গড়ে ওঠে, দায়িত্ব বাড়ে। এই নতুন অধ্যায়ে পা দিয়েই মানুষ আবিষ্কার করে, বাস্তবতা আর নৈতিক শিক্ষার মাঝে বিস্তর ফাঁক। যত দিন যায়, ততই নতুন নতুন অভিজ্ঞতা সামনে আসে। মানুষ পরিপক্ক হয়, কিন্তু সেই পরিপক্বতা আনন্দের চেয়ে প্রশ্নই বেশি তৈরি করে। একসময় মনে হয়—আমি এতদিন কী শিখলাম পরিবারে? কী শিখলাম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে? সার্টিফিকেট হাতে নিতে যে শিক্ষা অর্জন করেছি, তার সঙ্গে বাস্তব জীবনের শিক্ষার কোনো মিলই যেন খুঁজে পাওয়া যায় না। এই ...

দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত

দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত তারা খসার আলোয়  কিছু বলার থেকে  চুপ থাকাটাই শ্রেয় মতামতের পেন্ডুলামে সময় আটকে আছে  ইতিহাসের চোরাস্রোতে  তাই এখনও জোয়ার কিম্বা --- মনে পরে যায় ফেলে আসা অতীত  মুখে - চোখে  বিবর্ণতায় ঢেকে যায় শহর  তোমার কথায় জেগে থাকা রাত  অন্ধকারে মাখামাখি বারুদ এখন ! তারা খসার আলোয় নিজেকে দেখি। ইতিহাস কয়েকটা হাত বদলালেই আরো একটা হাত ক্রমশ হাতের লড়াই চাওয়ার ইচ্ছেতে  অসময়িক চাহিদা বদলে যায় ফেলে আসা স্মৃতি জানে হাত বদলের যন্ত্রণা অজগরের তাড়ায়  স্বরবর্ণের অ উল্টে যায় আর চেয়ে থাকে অব্যাক্ত বর্ণনার ইতিহাস।  ........................... তীর্থঙ্কর সুমিত  মানকুণ্ডু, হুগলী  পিন - ৭১২১৩৯    

কবি প্রণাম ।। রণেশ রায়

সুদূরের আবাহন (পঁচিশে বৈশাখে ‘নিরুদ্দেশ যাত্রা’ কবিতাকে উৎসর্গ করে কবিপ্রণাম)   রণেশ রায় আর কত দূরে যেতে হবে আমাকে? তোমার সে সুর আজো সুদূরে ডাকে। দিগন্ত পার হয়ে পূব থেকে পশ্চিমে, সবুজ বনানী ‘পরে নীলিমার অসীমে; স্রোতস্বিনী ধেয়ে চলে যেথায় মোহনায়— সেথা হতে ভেসে আসা আকুল ইশারায়, কোন সে অসীমে কে তুমি ডাকিছ মোরে— আমি যে দেখি না চিনি না তোমারে! অজানার ডিঙা বেয়ে উজানে, ভাসায়ে চলিছ মোরে স্রোতের টানে । কূল ভেঙে ধেয়ে যাই অকূলের পানে, কোথা নিয়ে যাবে তুমি—কিসের সন্ধানে? এই পথ চলা যেন ফুরাতে চায় না আর, খুঁজে ফিরি অতলান্ত সে রূপের পারাপার। তুমি কোন অপরূপা রূপসী সুন্দরী, নীল আকাশে ভেসে চলে তব সোনার তরী। রাশি রাশি সুখ-বেদনার কাব্য, আমাদের পথ চলা—চিরন্তন, নব্য। সহযাত্রী হয়ে এই জীবনের রঙ্গে, ভেসে চলি একসাথে সমুদ্র-তরঙ্গে। জানি না মিলিব কোন সে সবুজ দ্বীপে, যেথা সাঁঝের বাতি জ্বলে আশার প্রদীপে; কেটে যায় আঁধারিয়া এই কালরাত, ভোরের উদয়ে নতুন প্রভাত।

অজ্ঞাতকুলশীল ভরত কথা ।। সমীর কুমার দত্ত

অজ্ঞাতকুলশীল ভরত কথা সমীর কুমার দত্ত মানুষ যতদিন বাঁচে তার স্মৃতি বলে একটা জায়গা থাকে। সেই জায়গায় তার দেখা শোনা কতো ঘটে যাওয়া ঘটনা মজুত থাকে। জীবন সায়াহ্নে এসে সে সেই সব স্মৃতি রোমন্থন করতে করতে দাগ কাটার মতো কতো ঘটনাই না বেরিয়ে আসে। আবার হঠাৎই কতো ঘটনাই না ভেসে ওঠে আমাদের স্মৃতির ক্যানভাসে। আমরা কতো নামী, অনামী মানুষের কথা লিখি কিন্তু অবহেলিত, অপদার্থ, নিরক্ষর কোন মানুষের কথা বড়ো একটা লিখি না। আজ সেরকম একজনের কথা আমার স্মৃতিপটে উঁকি ঝুঁকি মারে, যা আজকের এই কর্মব্যস্ততার ন্যায্য পাওনা বুঝে নেওয়ার যুগে  না বললেই নিজের কাছে ছোট হয়ে যেতে হবে। ছোটবেলা থেকে দেখা এক অবহেলিত, কায়িক পরিশ্রমী, অজ্ঞাতকুলশীল ও শোষিত- বঞ্চিত মানুষের প্রতিভূ এই মুহুর্তে চক্ষুর সন্মুখে উদ্ভাসিত। আমাদের এক প্রতিবেশীর একটা ছোটখাটো হোটেল ছিলো। সেই হোটেলে যতো জল লাগতো সব‌ই একটা ড্রামে সে দু হাতের বালতি দিয়ে ভরে যেতো। ওইটিই তার পেশা ছিলো। আমি যখন তাকে দেখেছি তখন সে পঞ্চাশোর্ধ। নাম তার ভরত। নিজের পদবী নিজেই জানতো না। জিজ্ঞাসা করলে বলতো, "জানি না।"  তা সারাদিনে বিভিন্ন...

দুটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর

দুটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর  মৃত্যু উপাসক   শেষ রাত শুয়ে আছে মেঝের ওপর  বুকে পিঠে চেপে বসে সময়ের স্তর । এ যেন বাসর বধূর মৃত্যু সোহাগ  তার হাতে বেজে ওঠে বিষাদ বেহাগ । মরা রাত ঝরা রাত স্মৃতি রাত সাজে ক্রন্দন ধ্বনি বাজে ভাঙনের লাজে । চলে যাওয়া অভিমান ঠোঁটে লেগে আছে  নতজানু এই রাত সময়ের কাছে। শেষ রাত শেষ হবে মৃত সকাল এলে মরনের মিছিল হাঁটে অশ্রুত জলে । মরন পৃথিবী আঁকে মরনের ছক  প্রতিটি মানুষ তাই মৃত্যু উপাসক । তৃতীয় প্রেমিক তিনি  লক্ষ্যভেদে নারী জয় মহামতি মুখ  ভালোবাসার নীতি বাক্য ছড়ালো অসুখ । নিজের প্রেয়সী বাঁধা  অন্যের স্রোতে  প্রেমিক কেঁদেছে একা জারজ রাতে । তৃতীয় প্রেমিক তিনি  প্রথম তো নন পরাজিত স্বপ্নের  আত্মহনন ।

যোগ-বিয়োগ-গুণ-ভাগ ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

যোগ-বিয়োগ-গুণ-ভাগ আশীষ   কুমার   বিশ্বাস       গোটা  গোটা  দিন  রাত্রি  দিলাম একে  দিয়ে  টুকরো  টুকরো করো হিসাব  করে  সময়  গনে  বছর  বানাও  তাকে সংখ্যাতত্ব  দিলাম  তোমারই  হাতে । যোগ  বিয়োগ  গুন  ভাগের  পালা ভাগের  ভাগ  শূন্য  আসে  শেষে শূন্য  দিয়ে  যতই  করো  গুণ শূন্য  পাবে  গোটা  দিনের  শেষে । জীবন  নিয়ে  চলছে  দাবার  চাল সাদা - কালো  ঘোলা  জলের  খেলা দিনের  শেষে  রাত  আসবে  বটে ভোর  হলেও  পাবে  অবহেলা । দিশেহারা  উড়ছে  মানুষ  কতো দিনে  দিনে  এরা  খোলাম  কুচি গর-মিলের  হিসাব  দিয়ে  শেষে উন্নয়নের  তৈরি  হচ্ছে  সূচি ।    ...

শ্রমিক বিষয়ক হাইকুগুচ্ছ ।। বাসুদেব সরকার

শ্রমিক বিষয়ক হাইকুগুচ্ছ  বাসুদেব সরকার  শ্রমিক তারা শ্রম বেচে জীবন চালায় যারা  করছে কর্ম  কাজ করা হলো যে  শ্রমিকধর্ম।  শ্রমিক খাটে কলকারখানা ও  অফিস-মাঠে  মজুরি কম শ্রমিক করে তবু  কায়িকশ্রম  প্রতি দিবসে  শ্রমিক করে কাজ নেইকো বসে  ঝরছে ঘাম পায় না শ্রমিকেরা শ্রমের দাম  মালিকপক্ষ  শ্রমিকের মজুরি ঠকানো লক্ষ্য  মে দিবসের ডাকে সকলে আজ  জেগেছে ফের  =============== ◾বাসুদেব সরকার, পেশা: শিক্ষক  চরভৈরবী, হাইমচর, চাঁদপুর, বাংলাদেশ। 

বাঙালি আইকন ও বিরল প্রতিভার অধিকারী সত্যজিৎ রায়

বাঙালি আইকন ও বিরল প্রতিভার অধিকারী সত্যজিৎ রায় পাভেল আমান -হরিহরপাড়া- মুর্শিদাবাদ: আরো একটা ২ মে অর্থাৎ বাঙালি আইকন তথা বিরল প্রতিভার অধিকারী বাঙালি জাতিসত্তার অনন্য প্রতিভূ সত্যজিৎ রায়ের জন্মদিন আমরা পেরিয়ে এলাম। তাকে নিয়ে এখনো বাঙ্গালীদের মধ্যে জারি আছে নিরন্তর আলোচনা চর্চা ও গবেষণা । যে কজন প্রতিভাশীল ব্যক্তিত্ব কে নিয়ে বাঙালি গর্বিত প্রশংসিত সম্মানিত তন্মধ্যে সত্যজিৎ রায় একজন। বাংলা ভাষা সংস্কৃতি সাহিত্য তথা বাঙালি জাতিকে পৌঁছে দিয়েছিলেন বিশ্বের দরবারে  একজন বাঙালি জাতিসত্তার প্রতিভূ ও বার্তাবাহক হিসাবে। একথা জোর গলায় বলা যেতে পারে রবীন্দ্রনাথের পর তিনিই একমাত্র বহুমুখী প্রতিভা যার কাজে সারা বিশ্ব মোহিত হয়েছিল। তাঁর সিনেমা, গল্প, গান, ছবি – সব কিছুই মুগ্ধ করেছিল ভারত তথা গোটা পৃথিবীকে।ভারতবর্ষের প্রথম অস্কার জয়ী এই বাঙালি চিত্র পরিচালক বাংলা সিনেমার ইতিহাসকে পৌঁছে দিয়েছিলেন এক অন্য স্তরে। তাঁর প্রতিটি সিনেমাই সর্বকালীন। কোন নির্দিষ্ট যুগ বা সময়ে কখনোই বেঁধে রাখা যায়নি মানিক বাবুকে। তাঁর স্বতন্ত্র বাংলা সিনেমাগুলি বাঙালি ছাড়াও সমানভাবে স্পর্শ করেছিল বিভিন্ন কালের ...

কবিতাগুচ্ছ ।। সুশান্ত সেন 2

কবিতাগুচ্ছ ।।  সুশান্ত সেন  গুহা আমার কাছে এসে বসেছিল এক খ্যাঁক শিয়াল সে সব সময় খ্যাঁক খ্যাঁক করত বলে লোকে আমার কাছে আর ঘেঁশত মনা। বেশ নিশ্চিন্ত ছিলাম পাড়া পড়শীর নানা প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে না নিজের মনে থাকা যাবে বেশ। এক বন্ধু মুঠোফোনে ফোন করে বলল - সাবধানে থাকিস আর হাতের কাছে একটা বন্দুক রাখিস কারণ মাঝে মাঝে খ্যাঁক শিয়াল'রা ক্ষেপে যায়  আর ক্ষেপে গেলে তোকে কামড়ে দিতে পারে। বন্দুকের লাইসেন্স জোড়ার করে বন্দুক কেনার নানা ঝকমারি, তাই চাঁদনী চকে বেলেঘাটায় মেটিয়াবুরুজে ডানলপে ইত্যাদি নানা জায়গায় ঢু মারতে শুরু করলাম - একটা বন্দুক কেনার মানসে। ফ্রী স্কুল স্ট্রীটে এক লিপস্টিক পরা খ্যাঁক শিয়াল আমাকে খ্যাঁক করে ধরে গুহার ভেতর ঢুকিয়ে দিলো। কলকাতায় গুহা ভাড়া পাওয়া যায় সবাই জানেন নিশ্চয়।  মিছিল মিছিলে দাড়িয়ে আছ তোমরা সে তোমার পাপ আমরা নিয়ম মেনে তোমাকে পেটাই অনাগত কাল থেকে এইরূপ প্রথা চলে প্রবাহিত সবার সম্মুখে। তাই ত অনেক অনেক কথাই লাঠি কাঁদুনে গ্যাস বা জলকামান সয়ে সয়ে আকাশের চন্দ্রমা হয়েছে। লস এঞ্জেলস এ আজ চলিয়াছে গুলি নগররক্ষণ কার্য সম্পন্ন হয়েছে যথারী...

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৮তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩৩ এপ্রিল ২০২৬

  শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই শুভ বাংলা নববর্ষের হার্দিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।  সকলের মঙ্গল হোক। পারস্পরিক সৌহার্দ্যে নন্দিত হোক জীবন। বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক লেখাগুচ্ছ এই সংখ্যায় রইল। অন্যান্য লেখা পরে প্রকাশিত হবে। —নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত।   সূচিপত্র পহেলা বৈশাখ : অদ্বিতীয় বাঙালির সর্বজনীন উৎসব ।। অলোক আচার্য বোশেখের ঘুড়ি ।। শাহ মতিন টিপু পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান ।। দিব্যেন্দু ঘোষ হালখাতা — বাঙালিয়ানা ।। শ্যামল হুদাতী বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি বাংলা পঞ্জিকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।। তুষার ভট্টাচার্য হালখাতা ।। চন্দ্রমা মুখার্জী নববর্ষের গৌরচন্দ্রিকা ।। অভীক চন্দ্র নববর্ষের সেকাল একাল ।। মিতা ভৌমিক নববর্ষের নবতম আশা ।। সমীর কুমার দত্ত দুই আকাশ, এক নববর্ষ ।। রাজদীপ মজুমদার আমার সন্ন্যাস ।। অংশুদেব পয়লা থেকে একলা হওয়া ।। সুকান্ত ঘোষ পহেলা বৈশাখে আনন্দ নগরের স্মৃতি ।। সারাবান তহুরা মৌমিতা বাংলা নববর্ষ ।। পার্থপ্রতিম দত্ত স্মৃতির পাতায় পয়লা ।। দেবশ্রী চক্রবর...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

ছড়া ।। লিচু ।। আনন্দ বক্সী

লিচু  আনন্দ বক্সী 'গোয়াঙডঙ প্রদেশ' জায়গাটি চিনে  শুরু হয় চাষ এর অতীতের দিনে। টক আর মিষ্টিতে মজাদার খেতে  ছোটো-বড় সকলেই চায় স্বাদ পেতে। আকারে লম্বা-গোল ছোটো ছোটো ফল  থোকা থোকা ঝুলে থাকে গাছে অবিরল।  ছূঁচালো অগ্রভাগে খসখসে দেহ  কাঁচায় সবুজ ত্বক নেই সন্দেহ।  পাকলে গোলাপি লাল বাইরের ছাল  ভিতরের অংশটা সাদা চিরকাল।  আঁটিটা শক্ত খুব পয়জনে ভরা  বাদামি রঙেই এর দেহখানি গড়া। গ্রীষ্মের ফল এটি ভরপুর রসে  স্বাদ এর মনটাকে করে নেয় বশে। ভেবে বলো এর নাম পেলে নাকি কিছু? ঠিকই চিনেছ একে ফলটি যে লিচু। খোসাটা ছাড়িয়ে খাও কাঁচা হোক পাকা  স্যালাড-মিষ্টি-জুসে পাবে এর দেখা। শর্করা-চিনি-জল নেই এতে কম  ভিটামিন-ফাইবারে ভরা একদম। খনিজের আছে স্থান এই ফল মাঝে  শরীরের উপকারে লাগে যেটা কাজে। লোহিত কণিকা গড়ে আমাদের দেহে  হার্টকে সুস্থ রাখে অপরূপ স্নেহে। দেহ-ত্বকে ধরে রাখে এর যে সতেজতা  ওজনটা কমাতেও করে সহায়তা। রক্তচাপকে করে করতলগত  মধুমেহ রোগ এর হয় অনুগত। বশে রাখে লিচু শুনি বাত-হাঁপানিকে নানা কাজে প্রয়োজন এই ফলটিকে। খালি পেট...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

দেবাশিস সাহার গুচ্ছকবিতা

 দেবাশিস সাহার গুচ্ছকবিতা ১. আমার হিয়ার মাঝে... শরীর জুড়ে যাত্রাপালা, নাচ-গান, নাটক  দর্শক আমি শ্রমের বিনিময়ে  মঞ্চ বলতে ঘর-বারান্দা শ্রোতা বলতে আমি ও রবীন্দ্রনাথ  হঠাৎ চারপাশে অজস্র রবীন্দ্রনাথ  ভর করে শিল্পীর মাথায়  শিল্পী বেজে ওঠে প্রকৃতির খেয়ালে  আমার হিয়ার মাঝে... ............................ ২. আমায় যে সব দিতে হবে  নিজের অন্তরে প্রত্যেকে ভিক্ষুক  ভিক্ষার হাহাকার নিয়ে বেঁচে থাকে মানুষ  প্রত্যাশার ঝুলি নিয়ে  ভোর কাঁধে করে   বের হয় এক - একটি রাস্তা  আত্মদানে কেউ মুখর নয় এক বাউল সকাল  মিথ্যে রঙের একতারা বাজিয়ে  গেয়ে ওঠে    আমায় যে সব দিতে হবে...  ............................ ৩.যদি জানতেম আমার কিসের ব্যথা আকাশের চেয়ে উঁচু দু:খকে পার হতে পাখিকে শিখতে হলো উড়ান গাছেরাও শিখে নিলো বিবাহ সঙ্গীত  নামগান করতে করতে উড়ে গেলো প্রজাপতি  নদীর কাছে নতজানু হলো মানুষ  জেগে উঠলো নদী বেজে উঠলো নদী যদি জানতেম আমার কিসের ব্যথা  ............................ ৪.  প্রাণ ভরিয়ে তৃষা হরিয়ে রাস্...

মুক্তভাবনা : জগন্নাথ শেঠ

  ।। ভয়ের নববর্ষ ।। প্রতি বছরের মতো এবারও বললাম "শুভ নববর্ষ।"  বুকের ভেতরে অশনি সংকেতে কে যেন হাসল !  শুভ !  শয়তান হাসল! মনটা কালো হয়ে এলো। করোনার থাবায় বোবা হয়ে গেছে মনটা। কত দিন ঘরের বাইরে পা রাখিনি। লক ডাউন। খেলার মাঠে সবুজ ঘাস গজিয়েছে। হাত নেড়ে ডাকছে । আর আমার পায়ে বেড়ি ! কবে যে নীল আকাশটাকে এক ছুট্টে  জড়িয়ে ধরব ?  ভাবতে গিয়ে সন্ধ্যা নামে । পাখিরা বাসায় ফেরে । আমি আকাশের দিকে চেয়ে থাকি।  ভাবনারা বাষ্প হয় ।ভাবনার মেঘ ঘনায় । বৃষ্টি হয় না ! শেষ চৈত্রের সূর্যাস্ত দেখতে গিয়ে বুকের ভেতর মোচড় লাগে !  টকটকে লাল ! আগুনের গোলার মতো !   লাল তো শক্তির রূপক । কোন শক্তি ! শয়তানের শক্তি ?    অগোছালো মনটাকে কিছুতেই আশার আলো দিয়ে বাঁধতে পারছি না। পলকা হয়ে যাচ্ছে চিন্তা - সূত্র। কোন কিনারা নেই ! পৃথিবীর গভীর অসুখ! অশৌচের আঁশটে গন্ধ! বুক ভরে বাতাস টানতে ভয় হয়। চেনা মানুষ অথচ আলাপনে অবিশ্বাস! এই বুঝি আমার শরীরে ঢুকে গেল মারণ বিষ!         রাতে ঘুম আসেনা। অ...

পুরীর রথযাত্রা : প্রায় ৮০০ বছর প্রাচীন ।। অনিন্দ্য পাল

পুরীর রথযাত্রা : প্রায় ৮০০ বছর প্রাচীন অনিন্দ্য পাল আষাঢ় মাস আসলেই রথযাত্রার প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। রথের মেলা অনুষ্ঠিত হয় ছড়িয়ে ছিটিয়ে অনেক জায়গাতেই। কিন্তু রথযাত্রার প্রাচীন ইতিহাসের দিকে তাকালে পুরীর জগন্নাথদেবের রথযাত্রার কথাই সবচেয়ে পুরনো বলে মনে হয় না। বেদে রথের উল্লেখ থাকলেও রথে দেবমূর্তি স্থাপন করে রথ টেনে নিয়ে যাওয়ার উল্লেখ পাওয়া যায়নি। কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে ছয় ধরনের রথের কথা জানা যায়। ১) দেবরথ বা উৎসবে দেব প্রতিমা নিয়ে যাওয়া হয় এমন রথ ২) পুষ্পরথ, এই ধরনের রথ বিয়ে বা বিভিন্ন ধরনের মঙ্গলকার্যে ব্যবহৃত হত ৩) সাংগ্রামিক রথ অর্থাৎ যুদ্ধে ব্যবহারের উপযোগী ৪) পারিযানিক রথ অর্থাৎ যাত্রী বহনের উপযোগী রথ ৫) পরপুরাভিযানিক যা কিনা শত্রুর দুর্গ ভাঙার জন্য ব্যবহৃত হত ৬) বৈগয়িক, অশ্ব বা ঘোড়ার চর্যাশিক্ষার উপযোগী রথ। এই বিবরণ থেকে এটুকু বলা যায় যে খ্রীষ্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দী বা সমসাময়িক সময়ে রথের প্রচলন ছিল, এবং আজকের রথযাত্রার মত না হলেও রথযাত্রার প্রচলন ছিল।          ইতিহাসের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রাচীন সময়ে জৈন তীর্থঙ্কর মহাবীর এবং পার্শ্ব...

চারটি কবিতা ।। রণেশ রায়

চারটি কবিতা ।। রণেশ রায় জীবনের দুই দুশমন  দিগন্তে জোড়া দুশমন— একটি লোভের লৌহমুষ্টি, দখলের কারবারি; অন্যটি অন্ধ বিশ্বাসে ঘাতক— বিভেদের অনুসারী ; মানুষের আকাশ ঢাকে দু’টি কালো মেঘ। তাদের রূপ আলাদা— তবু শিকড় এক অন্ধকার গুহায় ; আমরা মাটি ছুঁয়ে উঠি, নিজ শক্তির অঙ্কুরে জেগে ওঠে প্রতিরোধ। গড়ি নতুন ভোর— নেই বিভেদের প্রাচীর, নেই কোনো বিভাজন; শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রুটি-রুজির অধিকার— মানুষের ঘামে ভেজা পৃথিবী গড়ি আমাদেরই নিজ নতুন সমাজ।। রাত শেষে  দূর হবে এ অন্ধকার--- রাত শেষে উদয়ের পথে  রবে না জঞ্জাল আর, দেখা দেবে ভোরের সকাল --- মুখোমুখি আমি  আর সুকন্যা আমার। সোভিয়েত ভুল বুঝো না— সোভিয়েত কোনো দেশ নয়, নতুন সকাল সে; পূবাকাশে সূর্যের উদয়। বসুন্ধরা—মা আমার, তোমারও; পেতে চাই তাকে লড়াইয়ের শেষে, সৃষ্টির আবহে— শান্তির নিশান ঊর্ধ্বে তুলে। আহ্বান  হাসি কান্নার সুখ দুঃখ দেরাজে তুলে রেখে পায়ে হেঁটে চলে সে— বোঝা শূন্য করে। ধূসর বনানী---পাতা ঝরা চোখের দৃষ্টি কুয়াশা  নতুনেরে ডাকি আমি সবুজ বনানী নত...

শালিক পাখির বিয়ে ।। মোঃ সৈয়দুল ইসলাম

  শালিক পাখির বিয়ে  মোঃ সৈয়দুল ইসলাম  আয়রে দোয়েল ময়না কোয়েল  সঙ্গে নিয়ে টিয়ে, সুনামগঞ্জের শিমুল বাগান  শালিক পাখির বিয়ে। বারেক টিলা হলুদ সন্ধ্যা  সবাই দারুণ সাজবে, শিয়াল মামা কাঠবিড়ালী মনের সুখে নাচবে। টুনটুনি আর কোকিল পাখি গাইবে বিয়ের গান, নাচে গানে মাতবে সবাই  ভালোবাসার টান। সুনামগঞ্জের টেকের ঘাটে শালিকের বৌ ভাত, খাবার খেয়ে রঙ তামাশায় কাটাবে দিন রাত। মোঃ সৈয়দুল ইসলাম হাসারচর, শান্তিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ। মোবাইল-০১৭২৮১০৬২৯২

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৮তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩৩ এপ্রিল ২০২৬

  শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই শুভ বাংলা নববর্ষের হার্দিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।  সকলের মঙ্গল হোক। পারস্পরিক সৌহার্দ্যে নন্দিত হোক জীবন। বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক লেখাগুচ্ছ এই সংখ্যায় রইল। অন্যান্য লেখা পরে প্রকাশিত হবে। —নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত।   সূচিপত্র পহেলা বৈশাখ : অদ্বিতীয় বাঙালির সর্বজনীন উৎসব ।। অলোক আচার্য বোশেখের ঘুড়ি ।। শাহ মতিন টিপু পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান ।। দিব্যেন্দু ঘোষ হালখাতা — বাঙালিয়ানা ।। শ্যামল হুদাতী বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি বাংলা পঞ্জিকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।। তুষার ভট্টাচার্য হালখাতা ।। চন্দ্রমা মুখার্জী নববর্ষের গৌরচন্দ্রিকা ।। অভীক চন্দ্র নববর্ষের সেকাল একাল ।। মিতা ভৌমিক নববর্ষের নবতম আশা ।। সমীর কুমার দত্ত দুই আকাশ, এক নববর্ষ ।। রাজদীপ মজুমদার আমার সন্ন্যাস ।। অংশুদেব পয়লা থেকে একলা হওয়া ।। সুকান্ত ঘোষ পহেলা বৈশাখে আনন্দ নগরের স্মৃতি ।। সারাবান তহুরা মৌমিতা বাংলা নববর্ষ ।। পার্থপ্রতিম দত্ত স্মৃতির পাতায় পয়লা ।। দেবশ্রী চক্রবর...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

মাসের বাছাই

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৮তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩৩ এপ্রিল ২০২৬

  শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই শুভ বাংলা নববর্ষের হার্দিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।  সকলের মঙ্গল হোক। পারস্পরিক সৌহার্দ্যে নন্দিত হোক জীবন। বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক লেখাগুচ্ছ এই সংখ্যায় রইল। অন্যান্য লেখা পরে প্রকাশিত হবে। —নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত।   সূচিপত্র পহেলা বৈশাখ : অদ্বিতীয় বাঙালির সর্বজনীন উৎসব ।। অলোক আচার্য বোশেখের ঘুড়ি ।। শাহ মতিন টিপু পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান ।। দিব্যেন্দু ঘোষ হালখাতা — বাঙালিয়ানা ।। শ্যামল হুদাতী বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি বাংলা পঞ্জিকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।। তুষার ভট্টাচার্য হালখাতা ।। চন্দ্রমা মুখার্জী নববর্ষের গৌরচন্দ্রিকা ।। অভীক চন্দ্র নববর্ষের সেকাল একাল ।। মিতা ভৌমিক নববর্ষের নবতম আশা ।। সমীর কুমার দত্ত দুই আকাশ, এক নববর্ষ ।। রাজদীপ মজুমদার আমার সন্ন্যাস ।। অংশুদেব পয়লা থেকে একলা হওয়া ।। সুকান্ত ঘোষ পহেলা বৈশাখে আনন্দ নগরের স্মৃতি ।। সারাবান তহুরা মৌমিতা বাংলা নববর্ষ ।। পার্থপ্রতিম দত্ত স্মৃতির পাতায় পয়লা ।। দেবশ্রী চক্রবর...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

হালখাতায় বেহাল দশা ।। দীপক পাল

  হালখাতায় বেহাল দশা দীপক পাল পার্কের বেঞ্চে তিন মক্কেল সবে এসে বসেছে। তিন মক্কেল মানে বাবলা সৌম্য ও বিশ্বরূপ। তিনজনেই এবছর উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছে। সৌম্য আর বিশ্বরূপ স্টার পেয়েছে। কিন্তু বাবলা তিনবারের চেষ্টায় মোটামুটি ভাল নম্বর পেয়ে পাশ করেছে। তাই ওদের আনন্দ আর ধরে না। সৌম্য ও বিশ্বরূপ ভাল কলেজে ভর্তি হয়েছে আর বাবলা গড়িয়াহাটায় ইনিডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে ড্রাফ্টসম্যান ট্রেণিংর জন্য ভর্তি হয়েছে। বাবলা বললো, - ' এই শোন, কাল তো পয়লা বৈশাখ, নববর্ষ, এই দিনটাকে আমরা অন্য রকম করে পালন করতে পারি না?' বিশ্বরূপ বলে, - ' তুমিই বলো কি ভাবে আমরা নববর্ষটা পালন করতে পারি?' - ' এই ধর কাল বিকেলে যদি আমরা সবাই ধুতি পাঞ্জাবী পরে বেরোই তবে কেমন হয়?' - ' ও বুঝেছি, কাল আমরা নববর্ষ উপলক্ষে নিপাট বাঙালী সেজে বেরোব।' সৌম্য বলে। - ' অ্যায় একদম ঠিক বলেছিস তুই।' এবার ওরা বললো, - ' কিন্তু ধুতি পাঞ্জাবীতো আমাদের নেই, তবে?' - ' আরে বাবা সেতো আমারও নেই। শোন আ...

বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি

বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক তপন মাইতি বাংলা নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ শুধু একটি দিন নয়; এটি বাঙালির সামষ্টিক স্মৃতি, কৃষিনির্ভর সভ্যতার চিহ্ন, অর্থনৈতিক বিন্যাসের সূচনা এবং সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক। সময়কে মানুষ ক্যালেন্ডারে বন্দি করলেও, নববর্ষ আসলে মানসিক পুনর্জন্মের এক সামাজিক অনুষঙ্গ। বছরের প্রথম দিনকে কেন্দ্র করে বাঙালি নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার সংকল্প করে। পুরোনো হিসাব বন্ধ করে নতুন খাতা খোলা—এই ধারণা বাঙালি জীবনদর্শনের গভীরে প্রোথিত। নববর্ষ মানে শুধুই উৎসব নয়; এটি স্মৃতি, শ্রম, আশা ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের একটি সামাজিক চুক্তি। বাংলা নববর্ষ তাই একদিকে কৃষিজীবনের ঋতুচক্রের সাথে যুক্ত, অন্যদিকে নাগরিক সংস্কৃতির আধুনিক উৎসবে রূপান্তরিত এক ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা। বাংলা সনের উৎপত্তি নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও সাধারণভাবে মনে করা হয় মুঘল সম্রাট আকবর রাজস্ব আদায়ের সুবিধার্থে সৌরভিত্তিক বাংলা সাল চালু করেন। কৃষিভিত্তিক সমাজে ফসল কাটার সময় অনুযায়ী কর আদায় প্রয়োজন ছিল।হিজরি চান্দ্র সন কৃষির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।ফলে সৌরবর্ষভিত্তিক বাংলা সনের প্রবর...

চিরকুটের কবিতা

নতুন পৃথিবী আজ সকালে রোদ্দুর নামুক ভেজা বর্ষার মতো গা ধুয়ে কিছুটা পবিত্র হবো যত জীর্ণ মলিন দ্বেষ বিলীন হোক সব সময়ের তটে গা ভাসিয়ে কিছুটা বিলাসী হবো যা ছিল অতীত যা ছিল কষ্ট সবকিছু ভুলে নবীনে ব্রতী হবো আসুক ধেয়ে সতেজ হাওয়া দূর হোক যত কুণ্ঠা ব্যথা পুরানো যত বিবাদ ভুলে ভালোবাসার আবার বেড়া দেবো কিছুটা আশাবাদী কিছুটা কর্মঠ কিছুটা জেদি কিছুটা শপথ আসুক ছুঁয়ে বাঁচার আলো হাতে হাত রেখেই বিশ্বাসের ঘরে আবার নতুন দীপ জ্বালাবো